অনলাইন ব্যবসা । অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইন ব্যবসা

অনলাইনে ব্যবসা করার নিয়ম

অনলাইন ব্যবসা
অনলাইন বিজনেস আইডিয়া

অনলাইন বিজনেস :  (Bill Gates) বিল গেটসকে বলা হয়েছিল যে, –If your business is not on the internet, then your business will be out of business.

মানে তিনি বলতে চাইছেন যে, যদি আপনার ব্যবসা ইন্টারনেটে সক্রিয় (active) নেই, তাহলে হয়তো আপনার ব্যবসা ব্যবসার থেকে বাইরে থাকবে। অনলাইন ব্যবসা

১ . পর্যাপ্ত চাহিদাপূর্ণ পণ্য বাছাই করা 

অর্থাৎ প্রথমে আপনাকে এ বিষয়ে যাচাই করতে হবে যে, অনলাইনে কোন পণ্যের পর্যাপ্ত চাহিদা রয়েছে , কোন ধরনের পণ্য মানুষ বেশি ক্রয় করে।

এর জন্য আপনি অনলাইনে বড় বড় মার্কেটপ্লেস গুলো নিয়ে গবেষণা করুন । সেখানে গিয়ে দেখুন গ্রাহকদের সবচেয়ে চাহিদা কোন পণ্যের প্রতি রয়েছে।

এমন সব পণ্য নির্বাচন করবেন না যেসব পণ্য খুব সহজেই পাওয়া যায় আমাদের আশপাশে। কেননা এই সমস্ত পণ্য অনলাইন থেকে কেউ কিনতে চায় না । অতএব এমন সমস্ত পণ্য ক্রয় করবেন যেগুলো আমাদের আশপাশে খুঁজে পাওয়া যায় না।

হাই কোয়ালিটি পণ্য নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি খেয়াল করবেন সেগুলো যেন দামের দিক দিয়ে কম হয়। কেননা প্রত্যেক মানুষই কম দামে হাই কোয়ালিটি পণ্য খোঁজে।

পাশাপাশি তারা গ্রাহকদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য কি কৌশল অবলম্বন করছে। সে বিষয়টিও লক্ষ্য করুন। তারপর সবগুলো বিষয় নোট করুন।

মানে তিনি বলতে চাইছেন যে, যদি আপনার ব্যবসা ইন্টারনেটে সক্রিয় (active) নেই, তাহলে হয়তো আপনার ব্যবসা ব্যবসার থেকে বাইরে থাকবে। অনলাইন ব্যবসা

২ . অনলাইন ব্যবসা করার সময় বিজনেস আইডিয়া করতে হবে

প্রথমে আপনাকে অনলাইনে ব্যবসা  সম্পর্কে আইডিয়া নিতে হবে। আপনাকে দেখতে হবে আপনি যে বিষয়ে অনলাইন বিজনেস করতে চাচ্ছেন। সে বিষয়ে অন্যান্য আপনার প্রতিযোগিরা 

কিভাবে বিষয়টিকে মেন্টেন করছে ?

তারা পণ্যের প্রচারণা চালাচ্ছে ? 

কিভাবে পণ্য বিক্রি করছে ?

তারা কেমন লাভ করছে ? ইত্যাদি এরকম নানান বিষয় সম্পর্কে আপনার শুরুতেই আইডিয়া নিতে হবে।

যদি আপনি পরিপূর্ণভাবে আইডিয়া না নেন তাহলে এ অনলাইন ব্যবসা থেকে বেশি লাভ অর্জন করা সম্ভব হবে না।

৩. অনলাইনে ব্যবসা করার কৌশল হলো  বিজনেস প্ল্যান করা

আপনি যে পন্যকে নির্বাচন করেছেন  ব্যবসা জন্য। পাশাপাশি যে পণ্য সম্পর্কে আইডিয়া নিয়েছেন। সে পণ্য সম্পর্কে একটি প্ল্যান তৈরি করা। যেখানে থাকবে  :

কিভাবে আপনি ব্যবসাটাকে পরিচালনা করবেন ? 

কি কি সুবিধা দিবেন ক্রেতাদের ?

কি পরিমান বাজেট হবে ?

প্রচার প্রসারের জন্য কৌশল কি হতে পারে ? ইত্যাদি এরকম নানান বিষয় সম্পর্কে আপনাকে শুরুতেই প্ল্যান করতে হবে। যদি আপনি বিজনেস প্ল্যান না করেন তাহলে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে।

৪.সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মার্কেটিং করা

আজ, FacebooktwitterGoogle plus বা Instagram এগুলির মতো অনেক social media website রয়েছে, যেগুলিতে অসংখক (unlimited) লোকেরা সক্রিয় (active) থাকেন।

এক্ষেত্রে, আপনার যদি এরকম social media profile বা page রয়েছে এবং তাতে হাজার হাজার followersfriends বা subscribers রয়েছে। তাহলে অনেক সহজে আপনি এই social media website গুলি ব্যবহার কোরে অনলাইন নিজের পণ্য, বিসনেস বা সার্ভিস এর ব্যাপারে লোকেদের জানাতে পারবেন বা মার্কেটিং করতে পারবেন।

৫. অনলাইনে ব্যবসা করার উপায় হলো ইমেইল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিন

একটি ব্যবসার জন্য ইমেইল মারকেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অতএব আপনি আপনার ব্যবসার জন্য গ্রাহকদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারেন।

অতএব ব্যবসা করার আগে অবশ্যই ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। এর ফলে আপনি দ্রুত সফল হতে পারবেন।

৬. অনলাইন ব্যবসা আইডিয়া হলো খুব সুন্দর ভাবে ওয়েবসাইটকে সাজানো

আপনার ওয়েবসাইট যত সুন্দর হবে ততো গ্রাহকরা আকর্ষিত হবে। আর যদি ওয়েবসাইট সুন্দর না হয় তাহলে গ্রাহকরা আগ্রহ বোধ করবেন না আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে।

আর যদি প্রবেশ করে ও বেশিক্ষণ থাকবে না আপনার ওয়েবসাইটে বরং বিরক্ত বোধ করে চলে যাবে।

আপনি যদি আপনার পণ্য বিক্রি করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে সুন্দর ভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে।

ওয়েবসাইটকে সুন্দর করার জন্য আপনি কয়েকটি বিষয়ে ফলো করতে পারেন।

  1. পণ্য কিনার সময় যে ধাপগুলো আসে সেগুলো খুবই সহজ করুন। যাতে করে দু একটি ক্লিকের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে পারেন।
  2. আপনার কোম্পানি সম্পর্কে প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনের বাইরে আলতু ফালতু জিনিস দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে করে গ্রাহকরা বিরক্তি বোধ করবে।
  3. বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিডিও বা অডিও ক্লিপ ব্যবহার করুন। এতে করে ওয়েবসাইটের গ্রহণযোগ্যতা পারবে।
  4. নেভিগেশন বার সহজ ভাবে তৈরি করুন। যাতে করে গ্রাহকরা খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারে।
  5. আপনার ওয়েবসাইটের জন্য প্রচলিত ফন্ট ব্যবহার করুন। যাতে করে সবাই বুঝতে পারে।
  6. ওয়েবসাইটের ডিজাইন সরল এবং সহজ রাখুন যাতে করে সবাই পছন্দ করে এবং ব্যবহার করতেও মজা পায়।

এ বিষয়গুলো যদি ফলো করেন তাহলে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটটি হাই কোয়ালিটি মানের হবে। এবং ক্রেতারা আগ্রহ বোধ করবে আপনার ওয়েবসাইটে বেশি সময় অবস্থান করার জন্য এবং পণ্য ক্রয় করার জন্য।

৭. পণ্য বেশি বিক্রি হওয়ার ক্ষেত্রে কি কি বিষয় ফলো করতে হবে ? 

অনলাইনে পণ্য বেশি বিক্রি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে। আজ আমি কয়েকটি মাধ্যম তুলে ধরবো। যদি মাধ্যম হলো ফলো করেন তাহলে আপনি অবশ্যই অনলাইনে সফলতা লাভ করবেন ফলে আপনার পণ্য খুব বেশি বিক্রি হবে।

  • ক্রেতাদের কাছে আপনার পণ্যটির বিশ্বাস যোগাতে হবে
  • পণ্যের জন্য খুব চমৎকারভাবে টাইটেল অর্থাৎ শিরোনাম ব্যবহার করতে হবে। যাতে করে গ্রাহকরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিনার জন্য আগ্রহ বোধ করে।
  • ক্রেতাদের পক্ষ থেকে পণ্যের জন্য রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন যাতে করে খুব সহজেই ক্রেতারা আপনার পণ্যটির ভালো এবং মন্দের ব্যাপারে রিভিউ দিতে পারে।
  • অবশ্যই পণ্যের সাথে ওয়ারেন্টি অথবা গ্যারান্টি কার্ড সংযুক্ত করুন।
  • আপনার পণ্য দ্বারা যে সমস্ত চাহিদা গ্রাহকদের পূর্ণ হবে সেটা উল্লেখ করে দিন।
  • কোন অফার থাকলে তা অবশ্যই লিখে দিন
  • বিশেষ করে কোন ছাড় থাকলে অবশ্যই তা হাইলাইট করুন।

এই সমস্ত বিষয় যদি ফলো করেন তাহলে অবশ্যই আপনার পণ্য অনেক বেশি বিক্রি হবে।

 ৮. Blogging এবং YouTube চ্যানেলের মাধ্যমে বিসনেস

এখন আপনারা যদি এমন একটি ব্যবসা করতে চাচ্ছেন, জেতাতে এক টাকাও না ব্যবহার করেই করা যাবে, তাহলে আমি Blogging এবং YouTube এর ব্যবসার কথা বলবো।

হে, ব্লগিং এবং ইউটিউবের চ্যানেলের মাধ্যমে বিসনেস আজ অনলাইনে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত, সহজ এবং লাভজনক ব্যবসা হিসেবে বলা হয়। এবং, একেবারেই ফ্রীতে আপনি এগুলি আরম্ভ করতে পারবেন।

কিভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করব

 যখন আপনি উপরের সমস্ত বিষয় গুলো ফলো করবেন এবং ভালোভাবে গবেষণা করবেন।

তখন আপনার ব্যবসার প্রতি একটি পরিপূর্ণ ধারণা এসে যাবে যে, কিভাবে আপনি ব্যবসা শুরু করবেন ?

তারপর ব্যবসা শুরু করে দিবেন আপনার গবেষণা অনুযায়ী। খুব অল্প সময়ে আপনি সফলতা লাভ করতে পারবেন।

ধৈর্য ধরবেন পাশাপাশি লেগে থাকবেন তাহলে সফলতা আপনার কাছে ধরা দিবে।

৪ টি সেরা অনলাইন ব্যবসার ধারণা (idea)

১. অনলাইন কাপড়ের ব্যবসা (online cloth store)

অনলাইনে সবচে বেশি চাহিদা থাকা প্রোডাক্ট বা জিনিস হলো কাপড়। সে, ছেলেদের কাপড় হোক কি মেয়েদের কিংবা বাচ্ছাদের।

আপনি যদি একটি online cloth store খুলেন তাহলে সেটা এক অনেক ভালো ব্যবসা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।

আপনি লোকাল ম্যানুফ্যাকচারার (local manufacturer) বা wholesaler থেকে কাপড় কিনে তারপর নিজের লাভ যোগ কোরে সেগুলি অনলাইন বিভিন্য মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন।

সেই মাধ্যম, আপনার নিজের একটি শপিং ওয়েবসাইট হতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা হতে পারে বা বিভিন্য মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করেও হতে পারে।

অনলাইন কাপড়ের ব্যবসাতে চাহিদা এবং প্রফিট (profit) দুটোই অনেক বেশি। কিন্তু, সঠিক ভাবে ব্যবসাটা আরম্ভ করতে হবে।

আপনি নিজেই একটি e-commerce website বানিয়ে নিতে পারবেন। বা, নিজের জন্য একটি অনলাইন website কাওকে দিয়েও তৈরি করিয়ে নিতে পারবেন।

২. মেয়েদের imitation বা artificilat jewellery ব্যবসা

আজ মেয়েরা, অরিজিনাল শোনার গহনা না পোরে আর্টিফিশিয়াল jewelry বা imitation  jewelry পোরে অনেক বেশি ভালো পান।

কারণ বিভিন্য জায়গায় যাওয়ার সময় বিভিন্য কাপড়ের সাথে সেই imitation jwellary সহজে ম্যাচ করে।

Imitation  jewelry র চাহিদা অনলাইন মার্কেটে অনেক বেশি এবং এতে লাভ প্রায় অনেক।

তাই, অনেক কম খরচে আপনি মাল কিনে তারপর সেগুলি অনলাইনে বিভিন্য মাধ্যমে মার্কেটিং এবং বিক্রি করতে পারবেন।

৩. Wholesaler বা manufacturer থেকে মাল কিনে বিক্রি

আপনি, নিজের পাশে থাকা wholesale দোকান বা manufacturer গুলির থেকে যেকোনো ধরণের পণ্য (product) ।বা জিনিস কিনে তারপর সেগুলি social media, Facebook marketplace বা বিভিন্য অনলাইন মার্কেটপ্লেস এর মাধ্যমে অধিক লাভে বিক্রি করতে পারবেন।

আজ, ভারতে অনেকেই এই মাধ্যম ব্যবহার কোরে অনলাইন অনেক জিনিস লাভে বিক্রি করছেন এবং ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৪. Online restaurant business

আজ লোকেরা সবটাই অনলাইন অর্ডার কোরে ঘরে বোসে বসেই পেতে চান। এক্ষেত্রে আপনার যদি ভালো ভালো খাবার বানানোর অভিজ্ঞতা আছে, তাহলে একটি অনলাইন খাবার দোকান বা online restaurant এর ব্যবসা আরম্ভ করতে পারবেন।

একটি ওয়েবসাইট বা app এর মাধ্যমে জেকেও আপনার দোকানের খাবারের menu দেখে খাবার অর্ডার (order) করতে পারবেন।

আমার এই অনলাইন restaurant এর বিসনেস করার আইডিয়াটা কিন্তু অনেক পছন্দ। এবং এই আইডিয়াকে নিয়ে যদি আপনি কাজ কোরে সফল হন, তাহলে আপনার ব্র্যান্ড অনেক বিখ্যাত হবে এবং এর থেকে লাভের পরিমান আপনি কল্পনা করতে পারবেননা।

কিন্তু, এই ব্যবসাতে, খাবারের কোয়ালিটি (taste), ডেলিভারি সময় এবং পরিমান সবটাই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এবং, এই কয়টা জিনিসের ওপরে আপনার ধ্যান দিয়ে কাজ করতে হবে।

উপসংহার 

আশা করি আপনি অনলাইন ব্যবসা করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। কিভাবে অনলাইন ব্যবসা শুরু করবেন আশা করি এই সম্পর্কে আপনার আর কোন মন্তব্য থাকবে না।

এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ!


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *