ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর সেরা ৫টি উপায়। increase Your YouTube Subscribe

ইউটিউবে সাবস্ক্রাইব বাড়ানোর উপায়

ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার সংখার উপর নির্ভর করে টাকা দেয় না; আবার চ্যানেল র‌্যাংকিংয়ে সাকস্ক্রাইবার সংখ্যার কোনো মূল্য নেই। কিন্তু আমরা ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর ৫টি টিপস শেয়ার করব।

সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা কোনো কাজে আসে না; আবার অনেক কাজে আসে। যেমন: আপনার চ্যানেলে মনিটাইজ পেতে হলে কমপক্ষে ১০০০ সাকস্ক্রাইবার লাগবে।

চ্যানেল থেকে মনিটাইজেশন বাদে অন্য উপায় যেমন: স্পন্সারশিপ পেতে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অনেক কাজে দেয়। চ্যানেলে সাকস্ক্রাইবার বেশি থাকলে ভিডিও বেশি ভিউ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১. কোয়ালিটি ও তথ্যবহুল কন্টেন্ট তৈরি করুন

ভিডিও বেশি ভিউ পাওয়ার একমাত্র উপায় ভালো কন্টেন্ট তৈরি করা। আমি এখানে কিছু পয়েন্টের কথা বলব যেটার মাধ্যমে কোয়ালিটি কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবেন।

  • স্পেসিফিক অডিয়েন্সের জন্য কন্টেন্ট তৈরি করুন।
  • ভিডিও তৈরি করার আগে সুন্দর ও কার্যকারী স্ক্রিপ্ট লিখুন। ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে স্ক্রিপ্টের গুরুত্ব অনেক।
  • কন্টেন্টি সবার যাতে বোধগাম্য হয় তেমন করে তৈরি করুন। বেশি বেশি উদাহরণ দিন। দর্শকরা উদাহরণ পছন্দ করে।
  • কিছু ভিজুয়াল দৃশ্য যোগ করুন।
  • সবসময় ইউনিক কন্টেন্ট তৈরির চেষ্টা করুন। কারোর কন্টেন্ট আইডিয়া কপি করবেন না। আসল কন্টেন্টের গুরুত্বই আলাদা।

২. নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করুন

ভালো কন্টেন্ট তৈরির পাশাপশি নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করাও জরুরী। এখন নিয়মিত বলতে প্রতিদিন কন্টেন্ট আপলোড দিতে হবে এমন নয়। আপনি যদি প্রতি সপ্তাহে যদি দুটো ভিডিও আপলোড করেন;তবে সেটা কনটিনিউ করতে হবে।

আপনি যদি নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ না করে; অনেক সময় পরপর করেন তবে দর্শক আপনার কথা ভুলে যাবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় যদি নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করেন; তবে বেশি ইমপ্রেশন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করলে সোস্যাল মিডিয়া মানে ইউটিউব আপনার কন্টেন্ট প্রমোট করে।

আপনি যখন নিয়মিত কন্টেন্ট পাবলিশ করতে থাকবেন; তখন দর্শক আপনার ভিডিওর প্রতি আকর্ষিত হবে। এতে আপনার চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করার সম্ভাবনা কয়েকগুন বেড়ে যাবে।

৩. ভিডিওতে এসইও করুন

ভিডিও এসইও করলে ভিডিওটি সহজে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সের কাছে পৌছাবে। ইউটিউব আপনার ভিডিও র‌্যাংক করানোর ক্ষেত্রে এসইও অনেক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।

কিভাবে ভিডিও অপটিমাইজ বা এসইও করে? ভিডিও অপটিমাইজ করা মানে সঠিক কিওয়ার্ডযুক্ত টাইটেল, ডেসক্রিপশন এবং ভিডিও ট্যাগ যুক্ত করাকে বুঝায়। ঠিক এভাবে….

টাইটেল

ইউটিউব এক্সপার্টদের মতে, সঠিক কিওয়ার্ডেব ব্যবহার আপনার ভিডিওকে র‌্যাংক করায়। র‌্যাংক ভালো মানে, বেশি ভিজিটর এবং বেশি সাবস্ক্রাইবার। উপরে দেখতে পাচ্ছেন কিভাবে টাইটেল দেওয়া হয়।

ডেসক্রিপশন

ডেসক্রিপশন দেয়ার সময় সঠিকভাবে সকল ইনফরমেশন দেয়ার চেষ্টা করুন; যেমন: আপনার ভিডিওর আসল কন্টেন্ট সম্পর্কে মানে কিওয়ার্ড, টাইমস্ট্যাম্প, কোনো লিংক থাকলে সেটাও দিন।

টাইমস্ট্যাম্প ইউজারদের যে অংশের কন্টেন্ট পছন্দ সেখানে জাম্প করতে সাহায্য করে। যেটা আপনার ভিডিওর ইউটার এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি করে। আপনার কন্টেন্টের কোনো উৎস বা কোনো প্রাসঙ্গিক লিংক থাকলে দিন।

ভিডিও ট্যাগ

ভিডিও ট্যাগের মাধ্যমে ইউজার আপনার ভিডিওকে সহজে খুজে পেতে পারে। আপনি সঠিক ভিডিও ট্যাগ ব্যবহার করলে সঠিক অডিয়েন্সের কাছে আপনার ভিডিও সহজে পৌছাবে।

আরো কিছু বিষয়:

  • আকর্ষনীয় থাম্বনেইল দিন। ভিডিও ক্লিক করার পেছনে থামনেইলের ভুমিকা অনেক।
  • ভিডিওর স্ক্রিপ্টটি আপলোড করুন।
  • স্টার্ট স্ক্রিন ও ইয়েন্ড ক্রিন যোগ করুন। ইয়েন্ড স্ক্রিনে আপনার চ্যানেলের প্রাসঙ্গিক বা একই ধরেনের ভিডিও যোগ করুন।

৪. চ্যানেল অপটিমাইজ করুন

ইউটিউবে বেশি সাবস্ক্রাইবার পাওয়ার জন্য ভিডিওর কোয়ালিটি বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। আপনার চ্যানেকেও সুন্দরভাবে অপটিমাইজ ও আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে।

ট্রেইলার তৈরি করুন

ট্রেইলারের মাধ্যমে আপনার অডিয়েন্সকে আপনার চ্যানেল সম্পর্কে জানাতে পারেন। আরও কিকি জানাতে পারেন তার আইডিয়া:

  • আপনার ব্রান্ড সম্পর্কে জানাতে পারেন।
  • চ্যানেলের ভিডিওর টাইপ সম্পর্কে জানান
  • কখন নতুন ভিডিও পাবলিশ করেন তা জানান।

চ্যানেলের লুকটা আকর্ষনীয় করুন

চ্যানেলটা সুন্দরভাবে অপটিমাইজ করে সাজানো জরুরী। চ্যানেলে সুন্দরকরে এবাউট পেজটা সাজান সঠিক কিওয়ার্ড ব্যবহার করে। ডেসক্রিপশন লিখুন ও কভার ফটো সহ চ্যানেলটা আর্ট করুন।

চ্যানেলের ডেসক্রিপশনটি যথাসম্ভাব ছোট ও আকর্ষনীয় করে তুলুন; সঠিক কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করুন। আপনার চ্যানেল ডেসক্রিপশনের প্রথম ১০০-১৫০ ওয়ার্ড এসইওর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকারী।

চ্যানেল ডেসক্রিপশনে কল-টু-একশন বাটন যোগ করুন; যেমন: আপনার ইমেইল নম্বর ইত্যাদি। 

আপনার চ্যানেলের হোমপেজ সাজান

ভিডিও বেশি ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চ্যানেলের হোমপেজ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। চ্যানেলের হোমপেজটা ভালোভাবে সাজাতে পারেন; যেমন: সেকশন ও প্লেলিস্ট যোগ করা, স্যোসাল মিডিয়া আইকন যুক্ত করা ইত্যাদি।

অবশ্যই দেখবেন: 

৫. সাবস্ক্রাইবার ওয়াটার মার্ক

আপনার ভিডিওর নিচে সাবস্ক্রাইব করার জন্য ওয়াটারমার্ক যুক্ত করুন। অনেক সময় ভিউয়ারদের সাবক্রাইব করার কথা খেয়াল থাকে না; এটা দ্বার আপনি সহজে মনে করিয়ে দিতে পারেন।

ভিডিওর কোনায় দেয়া ওয়াটার মার্কটি সাবস্ক্রাইবাবের সংখ্যা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করে।

Channel customization থেকে Branding থেকে নিচে Video watermark.

পাচটি পয়েন্ট সুন্দরভাবে পড়ার জন্য একটি বোনাস পয়েন্ট দিলাম (:

৬. প্রমোশন করুন

আপনার ভিডিওকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করুন। যেমন: ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি। ইউটিউবে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভুমিকা পালন করে।

আপনার ভিডিও রিলেটেড কোনো আলোচনা হলে, সেখানে আপনার ভিডিওর লিংক দিন। এতে ভিজিটরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ভিডিও প্রমোশনের জন্য বিভিন্ন ব্লগে লিখতে পারেন এবং লেখার মধ্যে আপনার ভিডিও এমবেড করুন।

ফর্মে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় আপনার ভিডিও যোগ করে প্রচুর ভিডিটর আনতে পারেন।

কোনো সাইটে আপনার চ্যানেলের নাম শেয়ারের ক্ষেত্রে নিচের ট্রিকটি ব্যবহার করুন।

https://www.youtube.com/channel/UCBe7l0gB5CdXhtc8Rof8NPA?sub_confirmation=1

এভাবে চ্যানেলের লিংক শেয়ার করলে আপনার ভিউয়াার যারা সাবস্ক্রাইব করেনি; তারা এমন পপআপ পাবে।

যাতে করে তাদের সাবস্ক্রাইব করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। আপনার চ্যানেলে লিংকের শেষে শুধুমাত্র ?sub_confirmation=1 এইটুকুযোগ করে এমন একটি লিংক পেতে পারেন।

এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ!

Posts created 30

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Related Posts

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top