মধু খাওয়ার উপকারিতা ও সঠিক নিয়ম

মধু খাওয়ার উপকারিতা

জেনে নিন, মধু কেন খাবেন? মধু খাওয়ার উপকারিতা কি? কোন সময় মধু খেলে বেশি উপকারিতা পাবেন?

ম মধু হল মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত প্রাকৃতিক এ্যান্টিবায়োটিক । যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয় ৷ মধুতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ আমাদের শরীরে তৎক্ষনাৎ এনার্জি যোগায় ৷ এছাড়া মধুতে রেয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন, অ্যামাইনো এসিড, খনিজ লবণ ইত্যাদি ৷

মধুতে বিদ্যমান উপাদানসমূহঃ

খাঁটি মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান বিদ্যমান । প্রকৃতিতে বিদ্যমান বিভিন্ন ফুল থেকে মৌমাছিরা যে মধু সংগ্রহ করে এতে থাকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫ থেকে ১২ শতাংশ মল্টোজ ৷ এছাড়াও প্রায় ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, প্রায় ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং প্রায় ১১ শতাংশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক এনজাইম৷ খাঁটি মধু চর্বি ও প্রোটিনমুক্ত । ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি ।

মধু খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতাঃ

আসুন প্রথমে আমরা জেনে নিই, নিয়মিত মধু পান করলে আমরা কি কি উপকার পাব। এরপর কিভাবে মধু খেলে আমাদের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশা আল্লাহ।

মধুর উপকারিতাঃ

মধু সেবনে রয়েছে অনেক উপকারিতা, মধু যেমন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে তেমনি রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। মধু শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং প্রতিদিন মধু খেলে অসংখ্য রোগ-বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মধুর উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। আয়ুর্বেদ এবং ইউনানি চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। এটা যেমন বলকারক, সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্যনির্যাস, তেমনি নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্রও। আর তাই তো খাদ্য ও ওষুধ এ উভয়বিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নির্যাসকে প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে ‘পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক’ পানীয় হিসেবে সব দেশের সব পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে। এ পর্যায়ে খাঁটি মধুর উল্লেখযোগ্য উপকারিতাসমূহ নিম্নে সংক্ষেপে তুলে ধরছিঃ

  • মধুতে বিদ্যমান রয়েছে বিভিন্ন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এর ফলে নিয়মিত খাঁটি মধু পানে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়।
  • মধু আমাদের শরীরে তৎক্ষনাৎ শক্তি যোগায়, শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শরীরে তাপ উৎপন্ন করে ।
  • মধু আমাদের শরীরে খাবারের হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়তা করে ৷
  • যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন, মধু তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারি। রক্তে হিমোগ্লোবিন এর পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তার মাধ্যমে মধু শরীরের রক্তশূণ্যতা দূর করে। 
  • মধু আমাদের শরীরে রক্তনালী প্রসারণের মাধ্যমে হৃদপেশির কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।
  • মধুতে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ উপাদানসমূহ। নিয়মিত মধু পানে আমাদের শরীরে এসব খজিনের (কপার, লৌহ, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি) অভাব পূরণ হয়৷
  • মুখের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ঘায়ের চিকিৎসায় মধু খুবই কার্যকরী এবং মধু আমাদের দাঁতকে মজবুত করে।
  • মৌসুমি সর্দি, জ্বর উপশমে তুলসি পাতার রসের সঙ্গে খাঁটি মধু মিশিয়ে কয়েকদিন নিয়মিত পান করলে এটা দারুণভাবে কাজ করে।
  • যারা ফুসফুসের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন এমনকি যাদের ফুসফুস করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তাদের জন্যও মধু খুবই কার্যকরী৷
  • মধু শিশুদের হাড়ের গঠন মজবুত করে, দৃষ্টিশক্তি এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
  • রাতের বেলা দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করলে আপনার অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করবে।
  • শারীরিক এবং যৌন দূর্বলতা দূরীকরণে মধুর রয়েছে বিশেষ ভূমিকা ৷
  • মধু পানে শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর হয় ৷
  • নিয়মিত মধু পান বাতের ব্যথা উপশম করে।
  • মধুতে বিদ্যমান অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ত্বকের রং সুন্দর করে এবং তারুণ্যতা বজায়ে রাখতে সহায়তা করে ৷ 
  • মুখের ব্রণ এর চিকিৎসায়, ত্বক এবং চুলের রূপচর্চায় মধু ব্যবহারে বিশেষ সুফল পাওয়া যায় ৷

অবশ্যই দেখবেন: 

মধুর উপকারিতা

হজমে সহায়তা
এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় মধু
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কারন, মধুতে আছে প্রচুর পরিমানে মিনারেল, ভিটামিন ও এনজাইম যা শরীরকে বিভিন্ন অসুখ বিসুখ থেকে রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে এক চামচ মধু খেলে ঠান্ডা লাগা, কফ, কাশি ইত্যাদি সমস্যা কমে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হলে প্রতিদিন হালকা গরম পানির সাথে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে খান।

ওজন কমায়
মধু ওজন কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। কারন, মধুতে কোনো চর্বি নেই। পেট পরিষ্কার করে, চর্বি কমায়, ফলে ওজন কমে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খেলে ওজন কমে আসবে কিছুদিনের মধ্যেই।

পানিশূন্যতা
পানিশূন্যতা রোধে মধু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

হৃদ্‌রোগ
হৃদ্‌রোগের টনিক হিসেবে এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সঙ্গে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যার ফলে হৃৎপেশি সবল হয় এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

রক্ত ও রক্তনালী পরিষ্কার
মধু নিয়মিত খেলে রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। অর্থাৎ রক্তনালী পরিষ্কার থাকে। সেখানে দূষিত কোনো পদার্থ যা স্বাস্থ্য হানির কারণ তা জমতে পারে না। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।

শক্তি বাড়াতে মধু
মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি আপনার শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

যৌন দুর্বলতায়
সাধারণত পুরুষদের মধ্যে যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খেতে পারেন। তাহলে একটা সময় বেশ উপকার পাবেন। প্রখ্যাত কিছু মধু বিজ্ঞানীদের মতে দৈনিক লিঙ্গে মধু মাখলে লিঙ্গ শক্ত ও মোটা হয় এবং সহবাসে দীর্ঘসময় পাওয়া যায়। নিয়মিত মধু সেবন করলে ধাতু দুর্বল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য
মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

অনিদ্রায়
অনিদ্রার ভালো প্রাকৃতিক ওষুধ হল মধু। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুমের করে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে চোখের জন্য বেশ ভালো উপকারী। গাজরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।

পেশিশক্তি বাড়াতে
পেশিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে মধু। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি শরীরে শক্তি যোগায়। পেশিকে অনেক বেশি কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।

গলার স্বর
গলার ভয়েজ খারাপ হয়ে গেলে মধু খেলে গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়
দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুইবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায়। প্রতিদিন সকালে খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত।

রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
এতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

বমিভাব
অনেকেই আছেন খাবার দেখলেই বা সামান্য খেলেই বমি বমি ভাব আসে। সেই সমস্যার সমাধানও করে মধু। বমিভাব কনায় মধু।

বুদ্ধি বাড়ে
মধু যে শুধু আপনার কায়িক শক্তি বাড়ায়, তা নয়। ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেলে তা মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে চালাতে সাহায্য করে। তার ফলে মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তথা বুদ্ধির জোর বাড়ে।

চুলের কোমলতা মধু
চুলকে ময়েশ্চারাইজ় করতে আপনি শ্যাম্পুর সঙ্গে মধু মিক্স করে নিন। তারপর চুলে লাগিয়ে কিছু সময় রাখুন তারপর মিশ্রণটি দিয়ে চুল পরিষ্কার করে নিন।চুল ধুয়ে ফেলার পর দেখবেন, আপনার চুল আগের থেকে কেমন কোমল ও ঝলমলে হয়ে গেছে।

মধু খাওয়ার নিয়মঃ

মধু খাওয়ার বিশেষ তেমন কোন নিয়ম নেই । তবে অবশ্যই নিয়মিত মধু পান সর্বোত্তম৷ এতে শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম অনেক শক্তিশালী হবে । পাশাপাশি যে উপকারিতাগুলি পাবেন সেগুলিও দৃশ্যমান হবে। আপনি পূর্বের থেকে অবশ্যই ভাল অনুভব করবেন । এই পর্যায়ে আপনাদের জন্য আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত মধু খাওয়ার নিয়ম গুলি তুলে ধরছিঃ

  • প্রতিদিন সকালে ১-২ চা চামচ মধু সরাসরি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন । এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে ।
  • মধু শরীরের ওজন কমাতে কাজে লাগে। রোজ সকালে কুসুম গরম পানির সাথে ১ – ২ চা চামচ মধুর সঙ্গে হালকা লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে পান করবেন । এতে আপনার শরীরের মেদ কমবে ।
  • কাঁচা ছোলার ভিজিয়ে রেখে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে শারীরিক দুর্বলতা দ্রুত দূর হবে।
  • ব্রেড বা রুটির সাথে জেলি কিংবা নসিলা এর পরিবর্তে মধু খেতে পারেন ৷ এটি খেতে বেশ সুস্বাদু। পাশাপাশি অধিক এনার্জী পাবেন ৷
  • চায়ের সঙ্গে চিনি এর পরিবর্তে মধু পান করতে পারেন ৷ চিনিকে বলা হয়ে থাকে ‘হোয়াইট পয়জন’। এটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ৷ 
  • দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন ৷ এটি খুবই উত্তম একটি পানীয় ৷ তবে অবশ্যই দুধ গরম থাকা অবস্থায় এতে মধু দিবেন না । তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তখন মধু মিশিয়ে খাবেন ৷
  • আমরা জানি কালোজিরা হল সকল রোগের মহা ঔষধ। অল্প পরিমান কালজিরার সাথে ১ চা চামচ মধু নিয়মিত পান করুন। এতে অনেক জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাবেন ইনশা আল্লাহ।
  • মধু এবং লেবুর শরবত খুবই উত্তম পানীয়। মধুতে বিদ্যমান খাদ্য উপাদানগুলি শরীরে তৎক্ষণাৎ শক্তি যোগায়। শরীরের ক্লান্তি দূর করে।
  • যারা কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভুগছেন তারা ১ মগ পানিতে ২ চা চামচ ইসুফগুলের ভুসি এবং ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খালি পেতে কয়েকদিন পান করলে ভাল সুফল পাবেন।
  • যারা রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যায় মধু বিশেষ উপকারী। মধুর সঙ্গে দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন খেতে পারেন। এতে আপনার রক্তনালীর সমস্যা দূর করবে। এমনকি রক্তে বিদ্যমান খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ ভাগ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে খাঁটি মধু।
  • সর্দি-জ্বর নিরাময়ের জন্য তুলসি পাতা বা বাসক পাতার রসের সঙ্গের মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে খুবই ভাল কার্যকারিতা অনুভব করবেন।
  • রান্নায় সরাসরি মধু ব্যাবহার করা যাবে না। খাবারে মধু মিশিয়ে মিষ্টি করতে রান্না শেষ হবার পরে তাতে মধু মিশিয়ে নিন।
  • ফুটন্ত পানি কিংবা দুধে সরাসরি মধু যোগ করা যাবে না। পানি বা দুধ পানযোগ্য তাপমাত্রায় আসলে তারপর এতে মধু যোগ করুন।
  • যেসকল বাচ্চাদের বয়স ১ বছর বা ১২ মাসের কম, তাদের কোন ক্রমেই মধু খেতে দেয়া যাবে না৷ কারণ ১ বছরের কম বয়সে বাচ্চাদের পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি সুগঠিত থাকে না৷ বাচ্চার বয়স ১২ মাস হওয়ার পরে, দৈনিক অল্প পরিমাণে মধু খওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে৷

আবার, এছাড়া মধু খাওয়ার সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতিহলোঃ

  • মধু খাওয়ার সবচেয়ে ভাল এবং সঠিক সময় হলো সকালে এবং রাতে
  • রাতে ঘুমানেরা আগে মধু খেতে পারেন
  • সকালে খালি পেটে মধু খেতে পারেন
  • দারচিনির সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
  • লেবুর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
  • আদার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
  • কালোজিরার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
  • কচি বেলের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন
  • তুলসি পাতার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন

এছাড়াও মধু অনেক ভাবে খাওয়া যায়। তবে সঠিক নিয়ম এবং আপনি কি জন্য মধু খেতে চাচ্ছেন সেটা জেনে খাওয়া উচিত।

রাতে খাওয়ার উপকারিতাঃ

মধু খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে। অনেকে অনেক কারনে রাতে মধু খেয়ে থাকে। তবে বিশেষ যে উপকারিতা গুলো তা হলোঃ

  • ডিনার পর খেলে গভীর ঘুম হয়
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়
  • যারা অনিদ্রায় ভুগছে তাদের জন্য খুবই উপকারি
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
  • দেহে শক্তি বৃদ্ধি করে

সকালে মধু খাওয়ার উপকারিতাঃ

রাতে যেমন মধু খাওয়ার উপকারিতা আছে তেমনি সকালে মধু খাওয়ার উপকারিতা আছে। অনেক ডাক্তার এবং বিজ্ঞানিরা সকালে মধু খাওয়ার জন্য বলে থাকে। সকালে মধু খাওয়ার উপকারিতা হলোঃ

  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
  • যৌন শক্তি বাড়ায়
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
  • প্রস্রাবের সমস্যা দূর করে
  • শরীরকে ঝরঝরা এবং সতেজ রাখে সারা দিন

কোন মধু স্বাস্থের জন্য সবচেয়ে উপকারি?

সব মৌসুমের খাঁটি মধুতেই রয়েছে প্রায় সমান গুণাগুণ৷ মৌসুম ভেদে মধুর স্বাদ, ঘ্রাণ এবং ঘনত্বের পরিবর্তন হয় সাধারণত ৷ কিন্তু বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ধরণের মধুই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারে আসবে না । খোলা বাজারে যে সমস্ত মধু পাওয়া যায় তার অধিকাংশই ভেজাল অথবা নকল ৷ আবার কমার্শিয়াল হানিগুলো সাধারণত মেশিনের মাধ্যমে প্রসেস করে বাজারজাতকরণ হয়ে থাকে, এর ফলে মধুর প্রাকৃতিক গুনাগুণ হ্রাস পায়। আর আমরা সবাই জানি, মধু আমাদের জন্য যেমন খুবই উপকারী তেমনি ভেজাল বা নকল মধু আমাদের শরীরের জন্য ততটাই অপকারী ।

তাই সবসময় চেষ্টা করবেন প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ভাল মানের RAW মধু পান করতে, এতে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। আর মধু যত টাটকা খেয়ে নেয়া যায় ততই ভাল।

মধুর উপকারিতা হাদিস

ইসলামে মধু খাওয়াকে অনেক বেশি উৎসাহিত করেছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ নিজেও মধু অনেক পছন্দ করতেন।  তিনি বলেছেন, “মধুতে মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষধ আছে যা আজকের আধুনিক বিজ্ঞান ধীরে ধীরে প্রমাণ করছে।

আল্লাহর হুকুম, রহমত ও কুদরতে মধু প্রতিটি রোগের ওষুধ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন : “…তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। …” (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৬৮ ও ৬৯)।

অন্যদিকে বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায়, রাসুল (সা.) মধু ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন : তাতে মানুষের জন্য রোগের প্রতিকার রয়েছে। (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৬৯)। আর যেকোনো রোগীকে মধু পান করানো হলে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। (আল-বাইহাকি, আস-সুনানুল সুগরা, খ. ৮, পৃ. ৩৪৫, হাদিস : ৩৯৫৮)।

শেষকথাঃ মধু এমন একটি নেয়ামত যা আমাদের সুস্থ রাখতে খুবই উপকারি। আমাদের সকলের নিয়ম মেনে প্রতিদিন উচিত। সুস্থ থাকতে মধু সেবন করুন।

এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ!

Posts created 30

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Begin typing your search term above and press enter to search. Press ESC to cancel.

Back To Top